বিভিন্ন উপাদান নিয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশ গড়ে ওঠে। প্রাকৃতিক পরিবেশের কোথাও রয়েছে, উঁচু-নিচু পাহাড়-পর্বত, কোথাও সাগর-মহাসাগর। কোথাও আবার নদ-নদী, খাল-বিল, হাওড়-বাঁওড়, নিচু এলাকা ইত্যাদি। তাছাড়া কোনো অঞ্চল বৃষ্টিপ্রবণ, আবার কোনো অঞ্চল শুষ্ক মরুভূমি। কোনো অঞ্চলের আবহাওয়া গরম, আবার কোথাও শীতল। বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে গরম ও শীতকালে ঠান্ডা অনুভূত হয়। এদেশে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। অতিবৃষ্টির কারণে কখনো কখনো বন্যা হয়। আবার, অনাবৃষ্টির কারণে খরাও হয়। এভাবেই গড়ে উঠেছে বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশ।
আমাদের জীবনে গাছপালার গুরুত্ব অনেক। কারণ, নানা উপায়ে গাছপালা আমাদের উপকারে আসে। যেমন-
১. গাছপালা আমাদেরকে অক্সিজেন দেয়, কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে।
২. গাছপালা পরিবেশকে সুন্দর রাখে। এতে আমাদের মন ভালো থাকে।
৩. গাছপালা বাতাসের ক্ষতিকর গ্যাস গ্রহণ করে বাতাসকে বিশুদ্ধ করে।
৪. গাছপালা গরমকালে ছায়া দেয়। এতে ঘরবাড়ি ঠান্ডা থাকে।
৫. গাছের বিভিন্ন উপাদান দিয়ে ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র তৈরি করা যায়। ৬. গাছ থেকে ফলমূল, বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য ও জ্বালানি পেয়ে থাকি।
এছাড়া আরও নানাভাবে গাছপালা আমাদের উপকারে আসে। সুতরাং আমাদের জীবনে গাছপালার গুরুত্ব অনেক।
পরিবেশের বৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা একান্ত প্রয়োজন। কারণ পরিবেশের বৈচিত্র্য হারিয়ে গেলে শুদ্ধ বাতাস, বিশুদ্ধ পানি এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। এছাড়া বিভিন্ন প্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হয়ে যাবে। পরিবেশ দূষিত হবে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হবে। আর পরিবেশের বৈচিত্র্য সংরক্ষণ করলে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন- বন্যা, খরা ইত্যাদি কমে যাবে। এসব কারণে আমাদের সবার উচিত পরিবেশের বৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা।
পরিবেশের বৈচিত্র্য রক্ষায় আমরা কাজ করব। বাড়ির চারপাশ, বিদ্যালয়ের আঙিনা, খেলার মাঠ, রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সব সময় চেষ্টা করব। পলিথিন ব্যাগ ও প্লাস্টিক বোতল ব্যবহার করব না। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলব। আমাদের বাড়ির চারপাশে, বিদ্যালয়ের আঙিনায়, রাস্তার ধারে গাছ লাগিয়ে আমরা প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশ সংরক্ষণ করতে পারি। নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করা হলে জলজ প্রাণীর আবাসস্থল বিনষ্ট হয়, পরিবেশ দূষিত হয় এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হয়। গাছপালা ও পাহাড় ইচ্ছেমতো কাটা যাবে না।
প্রাকৃতিক পরিবেশের বৈচিত্র্য সম্পর্কে একটি ছক নিচে দেখানো হলো-
| বিষয় | বৈচিত্র্য |
| ভূমিরূপ | প্রাকৃতিক পরিবেশের কোথাও সমতল, কোথাও উঁচু-নিচু পাহাড় ও পর্বত। |
| প্রাণী | প্রকৃতিতে রয়েছে ক্ষুদ্র কীটপতঙ্গ থেকে হাতির মতো বিশাল প্রাণী। |
| আবহাওয়া | কোথাও উষ্ণ অঞ্চল, কোথাও শীতল অঞ্চল, কোথাও বৃষ্টিপ্রবণ সবুজ প্রান্তর, কোথাও শুষ্ক মরুভূমি, কখনো অতিবৃষ্টিতে বন্যা হয়, কখনো অনাবৃষ্টির কারণে খরা হয়। |
| জলাশয় | কোথাও সাগর-মহাসাগর, কোথাও নদ-নদী, খাল-বিল ও হাওড়-বাঁওড়। |
| উদ্ভিদ | কোথাও ছোটো গাছপালার ঝোপঝাড়, কোথাও সুউচ্চ গাছের বনভূমি, কোনো গাছে সুন্দর ফুল হয়, আবার কোনো গাছে সুস্বাদু ফল। |
সামাজিক পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যেও বৈচিত্র্য রয়েছে। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের বিভিন্ন রকম উৎসব। যেমন-ঈদ, পূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা, বড়দিন ইত্যাদি। মানুষের প্রয়োজনে গড়ে উঠেছে স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজের মতো বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আমাদের সমাজে রয়েছে কৃষক, মৎস্যজীবী, ব্যবসায়ী, রিকশাচালক, শিক্ষক, ডাক্তার ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন। পেশার মানুষ। যাতায়াতের জন্য আমরা ব্যবহার করি বিভিন্ন। ধরনের যানবাহন। যেমন- রিকশা, গাড়ি, ট্রেন, লঞ্চ, বিমান ইত্যাদি। একেক অঞ্চলের মানুষের ঘরবাড়ি, ভাষা, খাদ্যাভ্যাস একেক রকম। গ্রাম ও শহরের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, বাজার, জীবনযাত্রা ইত্যাদির মধ্যে রয়েছে ভিন্নতা।
আমি পাবনা জেলার পাকশি গ্রামে বাস করি। আমাদের গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পদ্মা নদী। বর্ষাকালে নদীতে অনেক পানি থাকে। এ সময় জেলেরা নৌকা নিয়ে মাছ ধরে। আমাদের গ্রামটি সবুজে ঘেরা। গ্রামের ভিতর দিয়ে একটা খাল এঁকেবেঁকে বয়ে গেছে। খালটি পদ্মা নদীতে গিয়ে মিশেছে। আমাদের এলাকায় শীতকালে বেশ শীত পড়ে। কুয়াশায় চারপাশ ঢেকে যায়। আবার গ্রীষ্মকালে অনেক গরম থাকে। এ সময় আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল পাকে। বর্ষাকালে আমাদের এলাকায় অনেক বৃষ্টি হয়। এ সময় গাছপালা সবুজ হয়ে ওঠে। গাছের ডালে ময়না, টিয়া, বাবুই, টুনটুনি পাখি বাসা বাঁধে। গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে সাপ দেখা যায়। এছাড়া ঝোপঝাড়ে শিয়াল দেখা যায়। ফলের মৌসুমে প্রচুর কাঠবিড়ালি চোখে পড়ে
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allবাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে গরম অনুভূত হয়।
অতিবৃষ্টির কারণে কখনো কখনো বন্যা হয়।
আমাদের সমাজে রয়েছে কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।
বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও গোষ্ঠীর লোক মিলেমিশে বসবাস করে।
আমরা নির্দিষ্ট স্থানে প্লাস্টিক, পলিথিন ব্যাগ ও ময়লা-আবর্জনা ফেলব।
প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদানগুলোর মধ্যে বৈচিত্র্য রয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!